Opinion & Feedback
الحمد ﻟﻠﻪ أمر ألا نعبد إلا إﻳﺎه، فله العبادة الخالصة، والقدرة النافذة، والحكمة البالغة، أحمده تعالى وأشكره على نعمه السابغة، وأشهد أنلا إله إلا لله مخلصاً له الدين، وأشهد أن نبينا محمداً عبده ورسوله، أخشى الأمة ﻟﻠﻪ وأتقاها وأخلصها له، صلى لله وس وﺑﺎرك عليه وعلىآله، ورضي لله عن صحابته الكرام، وعن التابعين ومن تبعهم ﺑﺈحسان
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে এই মর্মে আদেশ করেছেন যে, আমরা শুধুমাত্র তাঁকে ব্যতীত আর কারো ইবাদাত করবো না। অতএব, সকল একনিষ্ঠ ইবাদাত একমাত্র তাঁরই জন্য এবং সকল কার্যকর ক্ষমতা ও পরিপূর্ণ হিকমাতের তিনিই মালিক। আমি তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর পরিপূর্ণ নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমি একনিষ্ঠভাবে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি ছিলেন উম্মাহর মধ্যে আল্লাহর জন্য সবচেয়ে বেশি ভয় পোষণকারী, পরহেজগার ও একনিষ্ঠ। আল্লাহ তা‘আলা তিনি এবং তাঁর পরিবারবর্গের উপর দয়া, শান্তি ও বারাকাহ বর্ষণ করুন, আর সন্তুষ্ট হোন তাঁর সাহাবায়ে কিরাম ও তাঁদের একনিষ্ঠ অনুসারীদের উপর।
হে মুসলিম উম্মাহ!
তোমরা মহান আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সকল কথা ও কাজে আল্লাহর জন্য আন্তরিক হও। কারণ, আল্লাহ তা‘আলার নিকট কোনো আমল কবুল হওয়ার পূর্ব শর্তই হচ্ছে, সেই আমল ইখলাসপূর্ণ ও সুনড়বাহসম্মত হওয়া।
সূরা মুলকের ২ নম্বর আয়াতে لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا এর তাফসীর করতে গিয়ে শায়েখ ফুদাইল ইবনে ইয়াদ বলেন, এখানে أَحْسَنُ عَمَلًا এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো أخلصه وأصوبه ইখলাসপূর্ণ ও যথাযথ (সুনড়বাহসম্মত) আমল। কারণ, কোনো আমল যদি ইখলাসপূর্ণ হয় কিন্তু যথাযথ পদ্ধতিতে তথা সুনড়বাহসম্মত না হয়, তাহলে তা আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। আবার কোনো আমল যদি যথাযথ পদ্ধতিতে হয়, কিন্তু তার মাঝে ইখলাস না থাকে তাহলে তাও আল্লাহ তা‘আলার নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না।
উপরোক্ত আলোচনার সমর্থনে কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে অনেক বর্ণনা এসেছে। যেমন : আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
[ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اﻟَّﻠﻪَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ [البينة- ٥
অর্থ : ‘‘তাদেরকে তো এ ছাড়া আর কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা নিজেদের দ্বীনকে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত করে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদাত করবে।” [সূরা আল-বাইয়্যিনাহ : ৫]
মহান আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
فَاعْبُدِ اﻟَّﻠﻪَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ * أَلَا ﻟَِّﻠﻪِ الدِّينُ الخَْالِصُ
অর্থ : ‘‘তাই তুমি একনিষ্ঠভাবে কেবল আল্লাহর ইবাদাত করো। জেনে রাখো, একনিষ্ঠ ইবাদাত শুধু আল্লাহরই প্রাপ্য।” [সূরা আয্যুমার : ২-৩]
প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা!
আল্লাহর জন্য ইখলাস আমাদের সৎপূর্বসূরী তথা সালফে সালেহীনের অভ্যাস ও নবী-রাসূলগণের সুনড়বাহ বা কর্মনীতি। সে জন্য উম্মাহর সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বোত্তম ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
قُلْ إِنِيّ أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اﻟَّﻠﻪَ مُخْلِصًا لَّهُ الدِّين* وَأُمِرْتُ لِأَنْ أَكُونَ أَوَّلَ الْمُسْلِمِينَ * قُلْ إِنِيّ أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ * قُلِ اﻟَّﻠﻪَ أَعْبُدُ مُخْلِصًا لَّهُ دِينِي
অর্থ : ‘‘(হে নবী!) আপনি বলুন, আমাকে আদেশ করা হয়েছে, আমি যেন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দাসত্ব করি। আমাকে আরো আদেশ দেওয়া হয়েছে, যেন আমি সবার আগে মুসলিম হই। আপনি বলুন, আমি যদি আমার রবের অবাধ্য হই, তাহলে আমি একটি ভয়ানক দিনের আজাবের ভয় করছি। অতএব, আপনি বলুন আমি আনুগত্যসহ একনিষ্ঠভাবে আল্লাহরই দাসত্ব করি।’’ [সূরা আয্যুমার : ১১-১৪]
সালফে সালেহীন তথা পূর্বসূরীদের কেউ কেউ বলেন,
ملاك هذه الأعمال النيات، فإن الرجل يبلغ بنيته ما لا يبلغ بعمله
“আমলের মূল হলো নিয়্যাত। কেননা একজন মানুষ নিয়্যাতের মাধ্যমে এমন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে আমলের মাধ্যমে সে পর্যায়ে পৌঁছতে পারে না।’’
অন্য একজন সালাফ বলেন,
لا يزال العبد بخير، إذا قال، قال ﻟﻠﻪ، وإذا عمل، عمل ﻟﻠﻪ
“একজন বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের মধ্যে থাকেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি যা বলেন আল্লাহর জন্য বলেন এবং যা করেন আল্লাহর জন্য করেন।’’
কোনো কোনো সালাফ নিজেকে পরিতাপ করতে গিয়ে বলেছেন,
ﻳﺎ نفس! أخلصي تتخلصي
“হে আত্মা! একনিষ্ঠ হয়ে যাও পরিত্রাণ পেয়ে যাবে।’’
তাঁদের কেউ কেউ বলেন,
طوبى لمن صحت له خطوة واحدة لا يريد ﺑﻬا إلا وجه لله تعالى
“সৌভাগ্য তার জন্য, যার একটি মাত্র পদক্ষেপও আল্লাহর জন্য সিদ্ধ হয়ে যায়।’’
আল্লাহু আকবার! ইখলাসের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব কতই না বিশাল, আর ইখলাস সম্পনড়ব ব্যক্তিগণ কতই না সম্মানিত। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন মানুষকে বস্তুবাদ গ্রাস করেছে এবং লোভ-লালসা ও মনের কামনা-বাসনা পেয়ে বসেছে এবং এমন সময়ে যখন ইখলাসের সুশীতল পথে গমনকারীদের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকানো হয়।
হে মুসলিম উম্মাহ!
মুখলিস ব্যক্তিদের নেতৃত্ব ব্যতিত কোনো জাতি তার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। আর মুখলিস তো তারাই যারা পরিশ্রম, কল্যাণ কামনা ও অধ্যবসায় ছাড়া আর কিছুই জানে না এবং লৌকিকতার পদ্ধতি ও মুনাফিকদের পন্থা অনুসরণ করে না।
সুতরাং কোনো ব্যক্তির পার্থিব উনড়বতি ও আখিরাতের সফলতার মূল চাবিকাঠি হচ্ছে তার ইখলাস এবং এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারে।
অন্যদিকে, নিয়্যাতের ত্রুটির কারণে ব্যক্তির ভালো আমলও নষ্ট হয়ে যায়। অতএব, সকল কষ্ট ও পরিশ্রমের বিনিময়ে সে প্রত্যাখ্যান এবং ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই অর্জন করতে পারে না।
অতএব, হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতাকে আঁকড়ে ধরো। তাহলে তোমরা বিজয়, মর্যাদা, মুক্তি, উনড়বতি, হিদায়াত ও উভয় জগতের কল্যাণসহ এর সকল বরকতপূর্ণ ফলাফল লাভ করতে পারবে।
হে আল্লাহ! আপনার সন্তুষ্টির জন্য আমাদেরকে সকল কথায় ও কাজে ইখলাস দান করুন এবং নিফাক ও আমল বিনষ্টকারী লৌকিকতা থেকে হিফাযত করুন। আমীন ॥
وصلى لله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وﺑﺎرك وسلم
[অনূদিত ও সংক্ষেপিত]